ঢাকাSaturday , 19 September 2026

সকল ইউনিয়নে জামাতের একক প্রার্থী বিএনপি’র একাধিক 

admin
September 19, 2026 4:29 pm
Link Copied!

 

মহাদেবপুর নওগাঁ প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকারের শেষ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অতি সন্নিকটে। ভোট গ্রহণের রোড ম্যাপও চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেকোনো মুহূর্তে দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। জানা যাচ্ছে এ বছরের ১২ নভেম্বর থেকে আগামী ২৭ সালের ২৭ শে মে’র মধ্যে ৭ধাপে নির্বাচন হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মহাদেবপুরের পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের টং দোকান পর্যন্ত ভোটের ভুটি উঠতে শুরু করেছে বেশ জোরেশোরেই। বরাবরের মতো এ নির্বাচনেও মহাদেবপুরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ উপজেলা শাখা ইতিমধ্যেই ১০ ইউনিয়নের ৯ টিতেই একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং একটিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে সেটিতে একক প্রার্থী ঘোষণা করবে। পক্ষান্তরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী গড়ে ৬ জন । এরমধ্যে সবচাইতে বেশি সংখ্যক প্রার্থী রয়েছে খাজুর ইউনিয়নে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে উপজেলার পাড়া মহল্লায় মসজিদের সামনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঈদ পূজা দলীয় নেতার আগমন সহ নানা বাহানায়/অজুহাতে দলীয় নেতারা বিলবোর্ড ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে জানান দিচ্ছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে। কেউ কেউ আবার দিনমজুর (মহিলা) ভাড়া করে প্রার্থীর ছবি সম্বলিত চটকদার প্রচার পত্র বা লিফলেট বাড়ি বাড়ি বিতরণ করা শুরু করছেন।
মহাদেবপুর উপজেলায় নিজ নিজ ইউনিয়নে দল থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য যারা ইচ্ছা পোষণ করেছেন তারা হলেন মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চৌধুরী দুলাল, বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আক্কাস আলী, কাজী ফেরদৌস ওরফে ফেরদা মেম্বার এবং এস এম হান্নান। এখানে জামাতের একক প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে। তাছাড়া এ ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে চেয়ারম্যান আছেন আওয়ামী লীগের সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল। হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে চেয়ারম্যান রয়েছেন বিএনপি থেকে এনামুল হক। এই ইউনিয়নে বিএনপির অন্য যে সকল সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবু মেম্বার এবং জহরুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সব সময়ই প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকে যে ইউনিয়নে তার নাম হলো খাজুর ইউনিয়ন পরিষদ। এ মৌসুমেও তার ব্যত্যাই ঘটে নি। ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত বেলাল উদ্দিন চেয়ারম্যানের দখলে রয়েছে। এ বছর এখানে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই জানান দিয়েছেন তারা হলেন সাইদুর রহমান ,শামীমুর রহমান শামীম ,তয়েজ উদ্দিন ,সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল মেম্বার ,আব্দুল জব্বার মন্ডল , সাবেক চেয়ারম্যান কলিমুদ্দিনের পুত্র লেলিন, আমিনুল ইসলাম বাদল, ডাক্তার কাওসার আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, হুমায়ুন মাস্টার, গোলাম মোস্তফা, ইমরুল কায়েস উল্লেখযোগ্য। ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে মাওলানা রেজওয়ান এবং উপজেলার আর কোথাও আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বরব না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম এবং সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
উপজেলার চান্দাশ ইউনিয়ন পরিষদ শাসন করছেন দুই টার্ম থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাহমুদান নবী রিপন। এ বছর বিএনপি থেকে এখানে চেয়ারম্যা প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সরদার মিজানুর রহমান, আবুল বাশার ,সুজাউজ্জামান বাচ্চু ,আলতাফ হোসেন, বেলাল উদ্দিন ,আনোয়ার হোসেন বাবু ওরফে ফুটবলার বাবু এবং সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আলি।
সফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ বরাবরই বিএনপি থেকে (চেয়ারম্যানদের চেয়ারম্যান খ্যাত) শামসুল আলম বাচ্চু নানা কৌশলে তার দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তারপরও এখানে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সেকেন্দার আলী ,এমদাদুল হক, কামরুল হাসান ওরফে হাসান মেম্বার এবং জামাতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোট যুদ্ধ করবেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম। উত্তর গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে অন্যান্য ইউনিয়নের মত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছড়াছড়ি না থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান আলী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও একসময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী চেয়ারম্যান মরহুম নাসির উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র গোলাম কিবরিয়া নাইস এর নাম জনসম্মুখে প্রকাশ্য। এখানে জামাতের একক প্রার্থী হয়ে ভোট করবেন মওলানা মমতাজ উদ্দিন। এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ শাসন করছেন চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের মেহেদী হাসান মিয়া ।এই ইউনিয়নে অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে বিএনপি থেকে প্রার্থী অনেক কমে বর্তমানে
ইমরুল কায়েস সাজু , শফিউল আলম চৌধুরী লিংকন এবং শামসুদ্দোহা বাবুর নাম চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। এখানেও জামাতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়াই করবেন গোলাম ফারুক বিদ্যুৎ।
উপজেলার অন্য যেকোনো ইউনিয়নের চাইতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারে স্বরব ইউনিয়নের নাম হলো রাইগা ইউনিয়ন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচালনা করছেন অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান আরিফ। বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যারা ভোটের মাঠে রয়েছেন তাদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ,মনজুর রহমান, রিপন হোসেন, রুবেল, জিল্লুর রহমান, হুমায়ুন হোসেন, মোফাক্ষারুল ইসলাম মুকুল এর নাম উল্লেখযোগ্য। এখানে জামাতের একক প্রার্থী রয়েছেন মোঃ মনিরুল ইসলাম। চেরাগপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শ্রী শিবনাথ মিশ্র ।প্রচার রয়েছে তিনি আর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। এখানে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম প্রচারিত হচ্ছে
তারা হলেন বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হারুন, বদিউজ্জামান সবুজ, সাজেদুল ইসলাম সাজু, শাজাহান ইসলাম। তাছাড়াও আওয়ামী লীগ ঘরনার স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুজ্জামান টনিক এর নাম বেশ শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ১০ ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র এই ইউনিয়নেই জামাতে ইসলাম এখনো কোন প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি।
নওগাঁ জেলার রাজনৈতিক বাতাস যে ইউনিয়নের প্রথম লাগে সেই ইউনিয়নের নাম হলো ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ। এখানে দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সাথে চেয়ারম্যান হিসেবে পরিষদ পরিচালনা করছেন বিএনপি নেতা শ্রী রামপ্রসাদ ভদ্র। তারপরেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাড়া হলেন কামরান মালিক খান, সিরাজুল ইসলাম, রেজাউল করিম রাজা, রুবেল, বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীর নাম শোনা না গেলেও মানুষের ধারণা সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হাসান আলি পরিবারের যে কেউ কৌশলে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে পারেন। অপরদিকে জামাতে ইসলামের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন মোঃ আব্দুল লতিফ।
সব মিলিয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ গুছিয়ে একক প্রার্থী নাম ঘোষণা দিতে পারলেও বিএনপির অবস্থা হ য ব র ল। যার ফলে, এখন পর্যন্ত উপজেলার ১০ ইউনিয়নের প্রতিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ৬ জন। নেতারা বলছেন নির্বাচনের সময় এখনো অনেক বাকি। ইউপি সদস্য থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত প্রতিটি পদে একক প্রার্থী দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
অভিজ্ঞ মহল মনে করে বিএনপির সুসময় কোন ইউনিয়ন পরিষদে যদি দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত করতে বিএনপি ব্যর্থ হয় তাহলে ওই ইউনিয়নে উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ১শ ১৪ জন। এখানকার মানুষের প্রত্যাশা যেহেতু দল ক্ষমতায় এবং দলীয় এমপি সুশিক্ষিত এবং কর্মঠ । সেহেতু প্রতিটি ইউনিয়নেই তাদের মনোনীত দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা। দলীয় সমর্থকদের আশা অচিরেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী মনোনীত করে দিবেন নেতৃবৃন্দ।#

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে বাঁশের বেড়া দিয়ে বসতবাড়ি ঘিরে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।