ঢাকাSaturday , 22 August 2026

নিয়ামতপুরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ সংকট, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

admin
August 22, 2026 1:56 pm
Link Copied!

 

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাভোগী দম্পতিরা। এসব সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা
মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে বিব্রত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন।
প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা না পেয়ে সেবাগ্রহীতারা কেউ ক্ষোভ, কেউ অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। অনেকে অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অপ্রতুলতার কারণে জন্মহার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিয়ামতপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ইমপ্ল্যান্ট, আইইউডি বা কপার-টি। এই সেবাগুলো সেবাগ্রহীতাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিতে হয়। বর্তমানে এই সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। আর স্হায়ী পদ্ধতি ভ্যাসেকটমি ও টিউবেকটমি সেবাও বন্ধ রয়েছে। এগুলোও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিতে হয়।
স্বল্পমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেক্টেবল। এই সেবাগুলো পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা সেবাগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেন। বর্তমানে এই সেবাগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত

শহিদা নামে একজন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী জানান, গত কয়েক মাস আগে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী একেবারেই পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
তিনি আরও বলেন , চাহিদার তুলনায় অনেক কম পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে খাবার বড়ির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতারা এই সেবা চাইলেও আমরা দিতে পারছি না।

পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ মাহমুদ হাসান বলেন, স্বল্পমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মধ্যে খাবার বড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এরপরে রয়েছে ইনজেক্টেবল, তারপরে রয়েছে কনডম। বর্তমানে ইনজেক্টেবল আমরা পাচ্ছি না। চাহিদার তুলনায় অনেক কম পরিমাণে খাবার বড়ি ও কনডম পাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ৫২ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা

শেফালি রাণী নামে একজন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী জানান, তিনি গতমাসে অবসরে গেছেন। তিনি অল্প পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী নিয়ে গ্রামে গেলে অনেকেই এসে চাইতো। তিনি চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারতেন না। এতে করে গ্রামের গৃহবধূদের জনরোষের মুখে পড়তেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেবাগ্রহীতা গৃহবধূ জানান, তাঁরা গরিব মানুষ। পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সেবা নেন।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই সেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এতে তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান। তিনি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সমস্যার দ্রুত সমাধান চেয়েছেন।
আরেকজন সেবাগ্রহীতা কৃষক জানান, তিনি আগে বাড়িতে বসেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পেতেন। বেশ কয়েক মাস ধরে নিয়মিত সেই সেবা পাচ্ছেন না। এতে করে তিনি অসুবিধায় পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মোঃ নুরুজ্জামান হক জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল লোকজন সাধারণত জন্মনিয়ন্ত্রণের সরকারি এই সেবাগুলো গ্রহণ করেন। তাঁরা কিছুটা অসচেতনও বটে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ঠিক না থাকলে ওইসব পরিবারে জন্মহার বেড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। এতে করে ভবিষ্যতে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা বাড়তে পারে।

নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ইকরাম রহমান জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলায় গতমাসে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী এসেছে। যেটা চাহিদার তুলনায় কম। তার আগের কয়েক মাস কিছুই পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিমাসে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর চাহিদা পাঠানো হয়। তাঁরা যতটুকু পাঠায় আমরা সেভাবে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করি। আশা করি এ সংকট দ্রুত কেটে যাবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।