ঢাকাSaturday , 19 September 2026

বাড়িভিটা থেকেও হলেন বাড়িছাড়া, অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন রাস্তায়

admin
September 19, 2026 4:26 pm
Link Copied!

 

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

ব্রেন স্ট্রোক করে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মো. মহিদুল ইসলাম (৫৫)। এই সুযোগে মহিদুলের বাড়ি লিখে নেন তাঁর আপন ভাই। অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ছাড়া হন তিনি। কখনও বোনের বাড়িতে। কখনও বা পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

মহিদুলের বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। মহিদুলের ছেলে মো. আরিফ জানিয়েছেন বাবার জীবনে ঘটে যাওয়া এসব কথা।

নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর)
উপজেলার মাধনগর স্টেশন রোড এলাকা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক ব্যক্তি।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে রাস্তার পাশে একাকী পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে নাটোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে সাথে কোনো স্বজন না থাকায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
​পরবর্তীতে বিষয়টি নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মহিদুলের বোন মোছা. জইনুর বলেন, তাঁর ভাই অনেক দিন ধরে তাঁর বাড়িতে থাকে। মাঝেমধ্যেই কোথায় যেন হারিয়ে যেত। কিছুদিন পর আবার ফিরে আসতো। আবার হারিয়ে যেত। গতকাল ফোনে তাঁর ভাইয়ের অসুস্থতার কথা জানতে পেরে আজকে সকালে ভাতিজাকে (মহিদুলের ছেলে) সঙ্গে নিয়ে নাটোর হাসপাতালে এসেছেন।
মহিদুলের ছেলে মো. আরিফ(২৬) বলেন, ‘ছোটবেলাতে আমার মা মারা যান। মা মারা যাওয়ার আমি ও আমার বোন নানির বাড়িতে চলে আসি। বাবা আবার বিয়ে করেন। বাবার সঙ্গে আমাদের খুব কম যোগাযোগ হতো। এর মধ্যে বাবা ব্রেন স্ট্রোক করেন। তারপরে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সেটা ১৫-১৬ বছর আগের কথা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবারা ছিল চার ভাই। চার ভাইয়ের আলাদা আলাদা বাড়ি ছিল। আমার বাবার বাড়িটা ছিল আমার দাদীর নামে। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর আমার চাচা চক্রান্ত করে বাড়িটা দাদীর কাছ থেকে লিখে নেন। তারপরে বাবা উপায়ন্তর না পেয়ে ফুপুর বাড়িতে আশ্রয় নেন।’
বাবার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর বাবা ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাবেন বলে জানালেন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটকে আদর্শ উপজেলা হিসেবে গডে তোলার অংগিকার করে সভা অনুষ্ঠিত 

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, অসুস্থ বৃদ্ধের সাথে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের লোকজনদের খবর দেওয়া হয়। তাঁদেরকে নাটোর হাসপাতালে আসতে বলা হয়।
তিনি বলেন, অসুস্থ ও অসহায় একজন মানুষকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। স্বজন না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  আত্রাইয়ে বিএমডিএ’র উদ্যোগে ৫ হাজার বনজ ও ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।