ঢাকাThursday , 18 December 2025

সাপাহারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে গ্রাম জনতা’ সমিতির এমডি হালিম লাপাত্তা

admin
December 18, 2025 8:03 pm
Link Copied!

 

সাপাহার নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বর্তমানে তালাবদ্ধ এবং ঘটনার পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম পলাতক রয়েছেন।

সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিঘীরহাট বাজারে অফিস নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি আব্দুল হালিম তাঁর ভাগিনা সোহাগ ও সবুজ এবং ভাগনি-বউ সুর্বনাসহ মোট ৮ জন কর্মী নিয়ে এই এনজিওটি পরিচালনা করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, ‘সহজ বিনিয়োগ প্রকল্প’ নামে একটি স্কিম চালু করে গ্রাহকদের জমানো টাকার ওপর অতিরিক্ত মুনাফা বা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখান তাঁরা। গ্রামের সহজ-সরল ও নিরীহ মানুষ সেই ফাঁদে পা দিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ সেখানে জমা রাখেন। এভাবে প্রায় শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করে সমিতিটি।

আরও পড়ুনঃ  আত্রাইয়ে আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সুদরানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

সম্প্রতি কয়েকজন আমানতকারী তাদের জমানো টাকার লভ্যাংশ চাইতে গেলে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন এমডি আব্দুল হালিম। একপর্যায়ে গ্রাহকদের না জানিয়েই কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মকবুল হোসেন জানান, “সমিতিতে টাকা রাখলে মাসে ভালো লাভ হবে—এমন আশায় নিজের জমানো দেড় লাখ, ব্যাংক লোন করা ২ লাখ এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া টাকাসহ মোট ৯ লাখ টাকা আমি ওই সমিতিতে রেখেছিলাম। এখন সমিতির অফিস বন্ধ, মালিকেরও খোঁজ নেই। আমি এখন দিশেহারা।”

আরও পড়ুনঃ  নাচোলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্ঠিত

আরেক ভুক্তভোগী হাজরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের মতো অনেক মানুষ আজ সর্বস্ব হারানোর পথে। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ বা চাষাবাদের জন্য টাকা জমিয়েছিল। টাকা ফেরত না পেলে পরিবার নিয়ে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল হালিম সাপাহার উপজেলার কোচকুড়িলা গ্রামের অলিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি একসময় একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্ত প্রহরী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে আব্দুল হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬’ গ্রহণ করলেন আত্রাইয়ের কৃতি সন্তান সামিউল ইসলাম

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।

এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস, এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে, জেলা অফিসে শুনানিও হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত শেষ করে সমবায় আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং পলাতক এমডিকে আটক করে তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।