ঢাকাFriday , 25 September 2026

নিয়ামতপুরে অবাধে তৈরী হচ্ছে অবৈধ ভুটভুটি, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী

admin
September 25, 2026 5:16 pm
Link Copied!

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ভুটভুটির (শ্যালো মেশিন চালিত তিন চাকার যান) জন্য প্রায়শই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা । এসব ভুটভুটির কোনো অনুমোদন নেই, রুট পারমিটও নেই। অবৈধ যান হিসেবে সড়কে হরহামেশাই চলছে এসব ভুটভুটি। চলতি বছরের জানুয়ারি – সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনের সঙ্গে ভুটভুটির সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন ১৭ জন। তবে স্থানীয়রা বলছেন হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ, বড় দুর্ঘটনা জানা গেলেও ছোটখাটগুলো জানা যায় না।

স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা জানায়, এসব ভটভটিগুলো সাধারণত শ্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রযুক্তিতে অবাধে তৈরী করা হয়। এগুলোতে সঠিক কোনো হাইড্রোলিক ব্রেক বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। বেশিরভাগ ভটভটি চালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পেশাদার ট্রাফিক নিয়মের ওপর প্রশিক্ষণ থাকে না। পণ্য বা যাত্রী বহনের ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই করা হয়, যার ফলে খুব সহজেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়ামতপুর কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে অনেক ধান উৎপাদন হয়। ধান এবং ধানের খড় পরিবহনের জন্য এসব ভুটভুটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট, পার্শ্ববর্তী সোনাইচন্ডী ও চৌবাড়ীয়া হাট ও রাজশাহীর সিটি হাটে গরু পরিবহনের জন্য ভুটভুটি এখন একমাত্র প্রধান বাহন।

আরও পড়ুনঃ  নওগাঁর নিয়ামতপুরে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠিত

উপজেলায় ভুটভুটি সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা সদর ইউনিয়নের মাদারীপুর নামক স্থানে খড় বোঝাই একটি ভুটভুটি উল্টে চার্জার ভ্যানকে আঘাত করলে দুজন আহত হয়।

গত ২০ জুলাই উপজেলার গাবতলী-ছাতড়া সড়কের ঠকঠকি বাজার এলাকায় গরুবোঝাই একটি ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একজন গরু ব্যবসায়ী নিহত হন । আহত হন আরও পাঁচ গরু ব্যবসায়ী।

গত ২৪ মার্চ উপজেলার সাবিলপুর মোড়ে ভুটভুটির ধাক্কায় অটোভ্যানে থাকা এক বৃদ্ধা নিহত হন। আহত হন আরো ছয়জন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি চৌবাড়ীয়া হাট থেকে গরু বেচা-কেনা ফেরার পথে বীরজোয়ান কাজীকুড়ি এলাকায় ভুটভুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হন আরও এক গরু ব্যবসায়ী।

গত ১৮ জানুয়ারি বেপরোয়া গতির কারণে গরুবোঝাই ভুটভুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দিলে নিহত হন একজন গরু ব্যবসায়ী। আহত হন তিনজন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট মোটরসাইকেল ও ভটভটির সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরও একজন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে যুবদলের উদোগে এক বিক্ষোভ মিছিল

চালকের বেপরোয়া গতির কারণে ২০২৪ সালের ৮ জুলাই উপজেলার সাংশৈল এলাকায় ভুটভুটি উল্টে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়। আহত হয়েছিল অন্তত ১০জন।

মো. সুজান নামে এক ভুটভুটি চালক বলেন, এই ভুটভুটি রাস্তায় চালানোর জন্য কোনো দপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোথাও কোনো কোনো অনুমোদনও নেননি। দুই বছর আগে তাঁদের একটা সমিতি ছিল। সেখানে চাঁদা দিতে হতো। সেটাও এখন নেই।

উপজেলার ছাতড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ছাতড়া নিয়ামতপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট। প্রতি সোমবার এখানে গরুর হাট বসে। ব্যবসায়ীরা ভুটভুটিতে করে গরু নিয়ে হাটে আসেন। এজন্য দীর্ঘস্থায়ী যানজট লেগে যায়।
তিনি জানান, গরু পরিবহনের জন্য নিয়ামতপুর ছাড়াও জেলার মান্দা, মহাদেবপুর, পত্নীতলা, ধামইরহাট থেকে ভুটভুটি আসে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী, জয়পুরহাট জেলা থেকে ভুটভুটি আসে।
গত সোমবার হাটে প্রায় ৩০০ ভুটভুটি এসেছে বলে জানালেন।

টিএলবি এলাকার গরু ব্যবসায়ী পলাশ ও আব্দুল হাই বলেন, অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে ভুটভুটিতে গরু উঠানো-নামানো সহজ। পরিবহন করতেও সুবিধা হয়। পরিবহন খরচ তুলনামূলক কম এবং গ্রামেই পাওয়া যায়। তাই সব গরু ব্যবসায়ী ভুটভুটি ব্যবহার করে।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় উপকারভোগীদের মাঝে কারিতাসের ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান 

ভুটভুটির বিষয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন বলেন, ভুটভুটির কারণে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুটভুটির চালকদের কোন প্রশিক্ষণ নেই। অনিয়ন্ত্রিত গতিতে রাস্তায় চলাচল করে এবং ট্রাফিকিং সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকায় পথচারীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। এসব ভুটভুটি বন্ধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নওগাঁ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. রাশেদ্দুজামান বলেন, শ্যালো মেশিন চালিত তিন চাকার ভুটভুটির কোনো অনুমোদন নেই, রুট পারমিটও নেই। মহাসড়কে এদের চলাচল  বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্নভাবে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ মুর্শিদা খাতুন বলেন, শ্যালো মেশিন চালিত ভুটভুটি এবং ব্যাটারী চালীত অটো রিক্সাগুলো অবৈধভাবে যত্রতত্র তৈরী হওয়ায় সাধারণ মানুষের উপকারে আসলেও ভোগান্তি বেড়েছে চরমে। এই গাড়িগুলোতে অতিরিক্ত পণ্য বা মানুষ বহনের কারনে দুর্ঘটনাও ঘটছে বেশি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।