নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক যুবককে জোর করে দোকানের ভেতরে নিয়ে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা নুর মোহাম্মদ নিয়ামতপুর থানার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিয়ামতপুর সদরের ড্রিমল্যান্ড কফি হাউসে অবস্থান করছিল ভুক্তভোগী যুবক সিয়াম তরফদার । এমন সময় নিয়ামতপুর উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম তরফদারের ছেলে নূর আলম ও উপজেলার সাংসৈল গ্রামের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান সহ বেশ কয়েকজন জোরপূর্বক কফি হাউস থেকে সিয়াম তরফদার নামের এক যুবককে নুর আলমের দোকানের ভেতরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকানের ভেতরে নিয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়, একপর্যায়ে নুর আলম ধারালো বড় ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়। ঘটনা বিষয় জানতে পারলে এরপর ভুক্তভোগীর চাচা ও স্থানীয় লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়, পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা একটি আইফোন, এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিয়াম তরফদার বলেন, তার বাড়ি থেকে আম বাগান ও ধানের টাকা নিয়ে রাজশাহীতে তার চাচাকে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। নিয়ামতপুর বাজারে এসে, ড্রিমল্যান্ড কফি হাউসে নুর আলম তরফদারের মেয়ের সাথে দেখা করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মেয়ের নানা আখতারুজ্জামান ও বাবা নুর আলম উপস্থিত হয়ে মেয়ের বাবা নুর আলম তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে মেয়ের বাবা তাকে বলে আমার দোকানে চলো তোমাদের বিয়ে দিয়ে দিব, দোকানে নিয়ে যাওয়ার পর গেট লাগিয়ে তাকে মারধর করে। এমনকি তার হাতে থাকা ব্যাগে ১০ লাখ টাকা ছিল, সে ব্যাগ টিও তাদের সাথে থাকা একজন ব্যক্তি নিয়ে নেয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর আলম বলেন, ছেলেটিকে শাসন করার জন্য চর থাপ্পড় মেরেছিলাম, মাথায় পাঁচটি সেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাকে শাসন করার সময় তার টিনের দোকানে পড়ে যেয়ে ছেলেটির মাথা কেটে যায়। তিনি আরো বলেন, ছেলেটির কাছে কোন টাকা ছিল না, তার কাছ থেকে আমরা কোন কিছু নেইনি।
এ ঘটনায় নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

