নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার ও থানা পুলিশের টানা তিন ঘণ্টার যৌথ অভিযানে মোট ১৩ দশমিক ৯ কেজি (প্রায় ১৪ কেজি) গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার সূর্যপুর ও মুরাদপুর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নাচোল-রাজবাড়ী সড়কের সূর্যপুর মোড়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া দেওয়া তুলার দোকানের সামনে এক বয়স্ক লোকের সন্দেহজনক চালচলন দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ওই ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং তার কাছে রক্ষিত ব্যাগ তল্লাশি করে ৯ কেজি গাঁজা দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে ধরে রেখে নাচোল থানায় সংবাদ দেন।
সংবাদ পেয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামতসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে (গ্রাম: তারাপুর, ইউনিয়ন: মনাকষা, থানা: শিবগঞ্জ) আটক করে থানায় নিয়ে যান।
আটক নজরুলকে থানায় নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তুলার দোকানের ভেতরে আরও মাদক লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে রাত ১১টার দিকে পুলিশ পুনরায় সূর্যপুর গ্রামের ওই তুলার গুদামে অভিযান চালায়। গুদাম থেকে আরও ৪ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। দুটি ধাপে মোট ১৩.৯ কেজি গাঁজা জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযান শেষে ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে ওসি ছাড়া এসআই জিয়াউর রহমানসহ নাচোল থানার ১১ জন পুলিশ সদস্য সরাসরি অংশ নেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “মাদকের অভয়ারণ্য ভেঙে দিতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।” একই সাথে সফল এ অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় স্থানীয় সচেতন জনগণ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
জানা গেছে, তুলার ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চলছিল। এ ঘটনায় জড়িত তুলার দোকানদার সূর্যপুর গ্রামের আব্দুল (৫২) এবং শিবগঞ্জের অপর এক সহযোগী বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে নাচোল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত নজরুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

