দফায় দফায় বৃষ্টিতে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নওগার নিয়ামতপুরে গেল সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মাঠে কাটা ধান ও পাকা বোরো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। কোনো কোনো জমিতে কাটা ধান পানিত ভাসছে। এর মধ্যে যারা ধান কেটে নিয়ে এসেছে তারা শুকাতে না পারায় তা আবার ভিজে যাচ্ছে। ফলে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। আবহাওয়া খারাপ থাকায় মেঘের লুকোচুরিতে ধান শুকানোর সুযোগ না পেয়ে চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে কৃষকের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আলু আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে এবং সরিষা হয়েছে ৬ হাজার ৭৬০ হেক্টরে।
দরগাপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল বলছেন, আমন ধান কেটে নেওয়ার পর ওইসব জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছিল। এ কারণে বোরো ধান রোপণ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারনে প্রত্যেক জমিতে পানি থৈই থৈই করছে । আবহাওয়া ভালো না থাকায় পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না। আমার প্রায় ১২ বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে ভাসছে।
একই গ্রামের সোহেল বলেন, এবারে আলু চাষ করে দাম পাইনি, এভেবেই ধান লাগিয়েছি। ধানের গাছ ও শীষ ভালো ছিলো। ভালো ফলনের শায় ছিলাম। অনাবৃষ্টি আমাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে। তাছাড়া সার, কীটনাশক দোকান থেকে বাকি নিয়ে প্রায় ৯ বিঘা জমি চাষ করেছি। এর মধ্যে হালখাতার চিঠি বাড়িতে দিয়ে গেছে। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি আমাদের এই ক্ষতি পূরণে আমাদের সরকারি ভূর্তকী প্রয়োজন।
কন্যাপাড়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন বলেন, “আমন ধান কাটার পর ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করি। এরপর সেই জমিতে বোরো ধান লাগাই। ধান কেটে শুকানোর জন্য জমিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই ধান আর ঘরে তুলতে পারছি না। ফলে ধানে গাছ উঠে যাচ্ছে।
উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেরিতে রোপন করা বোরো ধান সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই কাটা মাড়াই শুরু হয়। এ সময়ে সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকলেও টানা বৃষ্টির নজির বিগত বছরগুলোতে দেখা যায়নি। এ বছরের চিত্র পুরোটাই উল্টো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, আগের বছরের থেকে এ বছর বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক রবিশস্যের জমির ধান কাটতে বিলম্ব হয়েছে। আমরা দ্রুত ধান কাটতে পরামর্শ দেওয়া দিচ্ছি। তাছাড়া দ্রুত জমির পানি কেটে দিয়ে বের করে দিতে কৃষককে উদ্বোধ করা হচ্ছে।

