নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর বাদে চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ছাঁদ ভেঙ্গে সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে মোসলেমা খাতুন (৩০) ও রশিদা পারভীন (৪৬) নামের দুই শিক্ষিকা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। দুই শিক্ষিকা বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের পরামর্শে নিজ নিজ বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।
ঘটনাটি বুধবার দুপুরে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বাদে চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে স্হানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধীনে নির্মিত হয়। বর্তমানে ভবনটি ক্লাস নেওয়ার অনুপযোগী। বারবার নতুন ভবনের চাহিদা দিলেও এখন পর্যন্ত পর্যন্ত আশার আলো দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি।
আহত শিক্ষিকা মোসলেমা খাতুন বলেন, অফিস কক্ষে শিক্ষকরা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ করে ফ্যানসহ ছাঁদের প্লাস্টার আমারসহ রশিদা ম্যাডামের শরীরের ওপর পড়ে। এতে আমিসহ রশিদা ম্যাডাম আহত হয়। স্কুলের এমন ঘটনায় আমাদের মাঝে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে।
প্রধান শিক্ষক মাহেদুর রহমান বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক দিন থেকেই ভবনটির বিষয়ে আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনেও দেখানো হয়েছে। আশ্বাস ছাড়া কোন কিছুই জোটেনি এখন পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রণি পর্যন্ত ১২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে । বর্তমানে ভবনটির জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, যেকোন সময় বড় দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। ছাদের বিভিন্ন জায়গায় সামান্য বৃষ্টি দেয়াল ও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) আব্দুল হান্নান বলেন, বাদে চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের চাহিদাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন তালিকায় তাদের নাম না আসায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ মুর্শিদা খাতুন বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো ও কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।

